ত্বকের যত্ন nin.

Lifestyle

সারা দিনের ঘোরাঘুরির পর রাতে ত্বক পরিষ্কারে অলসতা আসাটাই স্বাভাবিক। অথচ ব্রণ, বলিরেখা, র্যাশ, পিগমেন্টেশনের মতো নানা সমস্যার মূলে রয়েছে অপরিষ্কার ত্বক।

ঘুমের সময়টাকে ত্বক নিজে থেকেই সারা দিনের ধকল ও ক্লান্তি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করে। কিন্তু অপরিষ্কার ত্বক এই প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটায়। তাই ত্বক পরিষ্কার নিয়ে অবহেলা নয়। 

1.তেলতত্ত্ব

ত্বক পরিষ্কারের সবচেয়ে কার্যকর প্রাকৃতিক উপাদান তেল। বাজারের কেনা নামি যেকোনো ক্লিনজারের চেয়ে তেল কোনো অংশেই কম নয়।

ত্বকের ভেতর থেকে ধুলা-ময়লা, মৃতকোষ পরিষ্কারের পাশাপাশি তেল ত্বকের প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। ত্বক পরিষ্কারের জন্য ঘরে থাকা নারকেল, অলিভ, আমন্ড বা পছন্দের যেকোনো তেল ব্যবহার করতে পারেন। বাজারের ক্লিনজিং অয়েলও একই কাজ করে।

অয়েল ক্লিনজিংয়ের প্রক্রিয়াটি বেশ সহজ। হাতের তালুতে কয়েক ফোঁটা তেল নিয়ে দুই হাত দিয়ে হালকাভাবে মুখমণ্ডল ম্যাসাজ করুন। অল্প পানি দিয়ে আবার ম্যাসাজ করে ফেসওয়াশ দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

সব ধরনের ত্বকের জন্য অয়েল ক্লিনজিং উপযোগী। তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণের সমস্যা না থাকলে অয়েল ক্লিনজিং করতে পারেন। ব্রণ থাকলে ত্বকে তেল ব্যবহার না করাই নিরাপদ।

2.মাটি ম্যাজিক

ত্বক পরিষ্কারে আরেকটি কার্যকর উপদান মাটি। তেলের মতো মূলতানি মাটিও ত্বকের ভেতর থেকে পরিষ্কার করে এবং ত্বকের বাড়তি তেল নিয়ন্ত্রণ করে। তাই ব্রণের সমস্যায় মূলতানি মাটি নিরাপদ ও কার্যকর। বিভিন্নভাবে মূলতানি মাটি ব্যবহার করতে পারেন।

ত্বক তৈলাক্ত হলে গোলাপজলে মুলতানি মাটি গুলে ত্বকে লাগান। ত্বক শুষ্ক হলে এই মিশ্রণের সঙ্গে সামান্য মধু ও কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিতে পারেন। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক পরিষ্কারের পাশাপাশি রোদে পোড়া কালচে ত্বক স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরে পাবে।

3.মুশকিল আসান

সারা দিন রোদে ঘোরাঘুরির কারণে ত্বক অনুজ্জ্বল ও ক্লান্ত হয়ে যায়। রোদে পুড়ে কালচে হয়ে যেতে পারে হাত, পা ও ঘাড়। রাতে শোবার আগে ১ টেবিল চামচ ঠাণ্ডা টক দইয়ের সঙ্গে ১ চা চামচ মধু ও ২ চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে মাস্ক বানিয়ে নিন।

মুখ, হাত-পা, ঘাড় ও গলাসহ ত্বকের খোলা অংশে মেখে রাখুন ২০ মিনিট। কুসুম গরম পানিতে রুমাল ভিজিয়ে মুছে নিন। বৈশাখের দিন ছাড়াও সপ্তাহে তিন দিন এই প্যাক নিয়মিত ব্যবহার করুন।

4.ময়েশ্চারাইজার মাস্ট

আমাদের ত্বক খুব সহজেই আর্দ্রতা হারায়। সতেজ ত্বকের জন্য আর্দ্রতা ধরে রাখা জরুরি। ময়েশ্চারাইজার ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। মুখ ধোয়ার পর আলতো করে মুছে ময়েশ্চারাইজার লাগান।

মনে রাখতে হবে তৈলাক্ত ত্বকেও ময়েশ্চারাইজার খুবই জরুরি।

সে ক্ষেত্রে অয়েল ফ্রি অ্যাস্ট্র্রিনজেন্ট সমৃদ্ধ ময়েশ্চারাইজার বেছে নিন। শুষ্ক ত্বকের জন্য অয়েল বেইজ ময়েশ্চারাইজার কার্যকর।

ঘরোয়া ময়েশ্চারাইজার চাইলে এক ভাগে গ্লিসারিনের সঙ্গে তিন ভাগ গোলাপজল মিশিয়ে স্প্রে বোতলে ভরে ফ্রিজে রাখুন। রাতে শোবার আগে মুখে স্প্রে করে আঙুল দিয়ে আলতো করে মিশিয়ে দিন।

গ্লিসারিনের এই মিশ্রণ শুধু রাতে ব্যবহারের জন্য। ত্বক বেশি শুষ্ক হলে এই মিশ্রণ দেওয়ার পর আধা শুকনো ত্বকে অল্প পরিমাণে অলিভ অয়েল অথবা আমন্ড অয়েল লাগাতে পারেন। হাত-পা ও শরীরের অন্যান্য অংশের জন্য এই ময়েশ্চারাইজার বেশ কার্যকর।

চাইলে ভালো মানের বডি লোশনও ব্যবহার করা যেতে পারে। ত্বকের পাশাপাশি ঠোঁটেও ময়েশ্চারাইজার লাগাতে ভুলবেন না। রাতে ঘুমানোর আগে পুরু করে পেট্রোলিয়াম জেলির প্রলেপ দিন ঠোঁটে।

বেশি শুষ্ক হলে প্রথমে গোলাপজলের সঙ্গে গ্লিসারিন মিশিয়ে ঠোঁটে লাগান। শুকিয়ে গেলে পেট্রোলিয়াম জেলি বা লিপবাম লাগান।

Leave a Reply

Your e-mail address will not be published. Required fields are marked *